চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের মৈশারচর গ্রামে হামলার ঘটনা: নারীসহ একাধিক আহত, এলাকায় আতঙ্ক!
নিজস্ব প্রতিনিধি
শনিবার বেলা ১২:৪৩, ২৮ মার্চ, ২০২৬
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নে একটি খালি বাড়িতে হামলার ঘটনায় নারীসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক ও তার ছেলে তারেকের বিরুদ্ধে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার এক মাস না যেতেই তারা আবারও সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তারেক, তার ভাতিজা রাব্বি এবং সবিকুলের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে একটি খালি বাড়িতে প্রবেশ করে সেখানে অবস্থানরত নারীদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় বাড়িতে পুরুষ সদস্যরা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। হামলার ঘটনায় হামলাকারীর আপন ভাগ্নির স্ত্রী মোসাঃ রাবি বেগম ও তার কলেজপড়ুয়া মেয়ে তানজিনাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে একই গ্রামের মানিক নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয় এবং সেই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন প্রায় চার মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তারা তাদের কর্মকাণ্ডে কোনো পরিবর্তন আনেনি। বরং জামিনে বের হয়ে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সহিংসতা চালানোর চেষ্টা করছে। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এই ঘটনার পর থেকে চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


